নামাজে বিশ্বনবী যেভাবে সেজদায় যেতেন, জেনে নিন সেই সুন্নতী তারিকায় !!

আমাদের চলা-ফেরা, জীবন যাপন সবই হবে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নিয়মনুযায়ী। ঠিক তেমনই নামাজের প্রতিটি কাজ হতে হবে তারই নিয়মানুযায়ী। কেননা তিনি বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় কর; যেভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো।’ সুতরাং নামাজের প্রতিটি রুকন আদায় করতে হবে সুন্নত তরিকায়।

যখনই সঠিকভাবে মানুষ নামাজ আদায় করে তখন সে নামাজ নিঃসন্দেহে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিজদার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো-

যেভাবে সিজদায় যাবেন:

হজরত ওয়ায়েল বিন হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, ‘আমি দেখেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সিজদায় যেতেন তখন তিনি উভয় হাত (মাটিতে) রাখার আগে তাঁর হাঁটুদ্বয় রাখতেন। আর যখন সিজদাহ হতে উঠতেন তখন হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন। (আবুদাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি)

ইমাম খাত্তাবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাত আগে রাখার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসের চেয়ে এই হাদিসটি অধিক বিশুদ্ধ। আর এই পদ্ধতিটি মুসাল্লীদের জন্য অধিক সহজ এবং দেখতেও অধিক সুন্দর।

নামাজে বিশ্বনবির রুকুর পদ্ধতি ও দোয়া-সিজদায় যাওয়ার সময় জমিনের অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ প্রথমে জমিনে পড়বে। তারপর তুলনামূলক অধিক নিকটবর্তী অঙ্গ জমিনে রাখবে। আবার সিজদা থেকে উঠার সময় জমিন থেকে শরীরের সবচেয়ে উপরের অঙ্গটি অন্যগুলোর আগে উঠবে। অতঃপর তার পরেরটি। সুতরাং মাথা যেহেতু জমিন থেকে সবচেয়ে উপরে তাই সবার আগে মাথা উঠবে, অতঃপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু।

যেভাবে সিজদায় আদায় করবেন-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কপাল ও নাকের ওপর সিজদাহ করতেন। সিজদাহ করার সময় তিনি কপাল ও নাক জমিনে ভালভাবে লাগাতেন। উভয় হাতের বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে এমনভাবে আলাদা করে রাখতেন যে, তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখা যেত।

মাগরিব ও ইশা নামাজে বিশ্বনবির ক্বিরাআত-সিজদার সময় তিনি উভয় হাতকে তাঁর উভয় কাঁধ ওকান বরাবর রাখতেন এবং পিঠকে সোজা রাখতেন। উভয় পায়ের আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী করে রাখতেন এবং উভয় হাতের তালু এবং আঙ্গুল সমূহকে ছড়িয়ে রাখতেন। আঙ্গুল সমূহের মাঝে বেশি ফাঁক রাখতেন না এবং একটিকে অন্যটির সাথে একেবারে মিলিয়েও রাখতেন না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো নিয়মে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
====================
ফরয গোসলের ইসলামিক সঠিক নিয়ম ও শর্তসমূহ !!

ইসলামি ভাষায় ফরজ গোসল করার সঠিক নিয়ম ও ফরয গোসলের শর্তসমূহ !!ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিম ভাই- বোনের সালাত সহ নানা আমল কবুল হয় না। যেটা ঈমানের ক্ষেত্রে চরম ভয়ানক ব্যাপার।

যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ
১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহন করলে(নব-মুসলিম হলে)।

ফরজ গোসলের ফরজ সমূহ হলো-
গোসলের ফরজ মোট তিনটি। এই তিনটির কোনো একটি বাদ পরলে ফরজ গোসল আদায় হবে না। তাই ফরজ গোসলের সময় এই তিনটি কাজ খুব সর্তকতার সাথে আদায় করা উচিত।
১. গড়গড়া কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. এরপর সারা দেহে পানি ঢালা ও ভালোভাবে গোসল করা।

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ
১. গোসলের জন্য মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি মুখে কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত।
২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে।
৩. এরপর ডানহাতে পানি নিয়ে বামহাত দিয়ে লজ্জাস্থান এবং তার আশপাশ ভালো করে ধুতে হবে। শরীরের অন্য কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধুতে হবে।

৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে পেলতে হবে।
৫. এবার ওজুর নিয়মের মত করে ওজু করতে হবে তবে দুই পা ধুয়া যাবে না।
৬. ওজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে ৩ বার ডানে তারপরে ৩ বার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশই বা কোন লোমও শুকনো না থাকে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় পানি দিয়ে ধুতে হবে।

৮. সবার শেষে একটু অন্য জায়গায় সরে গিয়ে দুই পা ৩ বার ভালোভাবে ধুতে হবে।

অবশ্যই মনে রাখতে হবেঃ
১. পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে।
২. এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর ওজুর দরকার নাই, যদি ওজু না ভাঙ্গে।

(আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে কুর’আন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দিক এবং পূর্বের না জেনে করা ভুল ক্ষমা করুক।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *