নারীরা নাভির নিচে পায়জামা পরলে কি নামাজ হবে?

প্রশ্ন : অনেকে বলেন যে নারীরা নাভির নিচে পায়জামা পরলে নাকি নামাজ হবে না। এটা কি আসলে ঠিক?

উত্তর : নামাজের মধ্যে নারীদের সারা শরীর ঢাকতে হবে, এটা হচ্ছে নিয়ম। এমনকি পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢাকার ব্যাপারে আলেমরা মত দিয়েছেন। নামাজের মধ্যে যদি ছুটে যায়, সেটা আলাদা কথা। কিন্তু বেশির ভাগ আলেমের মতে পায়ের পাতা ঢাকতে হবে। যদি একটা কাপড় হয় এ রকম, যে কাপড়টায় আপনার সারা শরীর ঢেকে গেছে, যেমন : ম্যাক্সি বা গাউন পরেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে শরীর ঢাকা হচ্ছে বড় কথা। এখন পায়জামা কোথায় নামল বা উঠল, সেটা বড় কথা নয়। পায়জামার ওপরে যদি কোনো লম্বা কাপড় থাকে, তাহলে তাঁর সালাতের কোনো সমস্যা হবে না।

যে ব্যক্তি সেটা বলেছেন, তিনি হয়তো চিন্তা করেছেন যে আপনার কাপড় হয়তো ঢাকা নেই। যদি পায়জামার ওপরে কাপড় থাকে অথবা যদি শরীর ঢাকা হয়ে যায়, তাহলে আপনার সালাতে কোনো সমস্যা হবে না। সে ক্ষেত্রে পায়জামা যদি নাভির নিচে নেমেও যায়, তাতে কোনো অসুবিধা হবে না। কারণ সালাতের জন্য মূল আদব হচ্ছে সারা শরীর ঢাকা থাকতে হবে।

যে ৪টি শর্ত পূরণ না করলে মুসলমানদের বিয়ে করা হারাম !
মুসলমানদের উপর আল্লাহ তায়ালা বিয়ে ফরয করে দিয়েছেন। কিন্তু বিয়ে ফরয হলেও ৪টি শর্ত পূরণ না করলে মুসলমানদের বিয়ে হালাল হয় না । তাই সেই ৪টি শর্ত সম্পর্কে এখনই চলুন জেনে নেই।

(১) ইশারা করে দেখিয়ে দেয়া কিংবা নাম উল্লেখ করে সনাক্ত করা অথবা গুণাবলী উল্লেখ অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বর-কনে উভয়কে সুনির্দিষ্ট করে নেয়া।

২) বর-কনে প্রত্যেকে একে অপরের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া। এর দলীল হচ্ছে নবী (সাঃ) বাণী। নবীজী (সা.) বলেছেন,‘স্বামীহারা নারী (বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্ত) কে তার সিদ্ধান্ত জানা ছাড়া (অর্থাৎ সিদ্ধান্ত তার কাছ থেকে চাওয়া হবে এবং তাকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে) বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া (কথার মাধ্যমে অথবা চুপ থাকার মাধ্যমে) বিয়ে দেয়া যাবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! কেমন করে তার সম্মতি জানবো (যেহেতু সে লজ্জা করবে)। তিনি বললেন, চুপ করে থাকাটাই তার সম্মতি।” [সহীহ বুখারী, (৪৭৪১)]

(৩) বিয়ের আকদ (চুক্তি) করানোর দায়িত্ব মেয়ের অভিভাবককে পালন করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ তা’য়ালা বিয়ে দেয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশনা জারী করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও।” [সূরা নূর, ২৪:৩২]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:“যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।” [হাদিসটি তিরমিযি (১০২১) ও অন্যান্য গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত এবং হাদিসটি সহীহ]

(৪) বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবে। দলীল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

বিয়ের প্রচারণা নিশ্চিত করতে হবে। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।” [মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)]

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *