বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। প্রভাবশালী এ দুটি দেশ শক্তিশালী গণতন্ত্রের স্বার্থে জনগণের পছন্দ অনুযায়ী পরবর্তী সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ব্রিটিশ হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক গতকাল বুধবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গতকাল বিকেলে ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং সহিংসতামুক্ত নির্বাচন দেখতে চাই। বাংলাদেশে আমাদের কোনো পছন্দের রাজনৈতিক দল নেই। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি আমাদের পক্ষপাত নেই। বাংলাদেশে কারা দেশ পরিচালনা করবেন বা সরকারে আসবেন তা এ দেশের জনগণই ঠিক করবে। আমরা এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের কাউন্সিলে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি আগামী নির্বাচন এমনভাবে করতে চান যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। আমরা তার সদ্বিচ্ছা ও অঙ্গীকারে অনুপ্রাণীত। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং মানসম্পন্ন হবে। সেখানে সব দলের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। আমরা বিভিন্ন দূতাবাস রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে প্রধান দুটি দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করছি। নির্বাচনের পরিবেশ ও সার্বিক বিষয়ে বোঝার চেষ্টা করছি। নির্বাচনকে ঘিরেও যেন সহিংসতা না হয় সেদিকেই সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি, এটি কেবল সরকার নয়, জনগণের জন্য জরুরী।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, র্যালী, সভা সমাবেশের সুযোগ অবাধ রাখতে হবে বলে মত দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, নির্বাচনের ওপর এসব কর্মসূচীর প্রভাব রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে এমন কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বিশেষ করে ধর্মীয় সংঘাত যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমূখর প্রচারণার ওপর আমাদের আগ্রহ আছে।

সেখানে কোন পক্ষই যেন সহিংসতাকে প্রশ্রয় না দেয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন এক এবং অভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যম উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সম্প্রতি মার্কিন সরকার সাতটি সন্ত্রাসী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ‘আইএস-বাংলাদেশ’ নামেও একটি সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এ প্রসঙ্গে বলেন, এখানে আইএস আছে আমরা তা বলছি না। তাদের শাখা আছে তাও নয়। তবে আমরা বলেছি, আন্তর্জাতিক ওই সন্ত্রাসী সংগঠনটির সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু লোকজন নানাভাবে জড়িত আছে। অর্থকড়ি থেকে শুরু করে অস্ত্রসহ নানাভাবে তারা সহায়তা পায়।

অন্যদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক গতকাল দুপুরে বারিধারায় সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বাংলাদেশ সফরকালে এমন বার্তাই দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, বরিস জনসনের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের মূল কারণ দু’টি। প্রথমত, বিশ্বে আমাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। আমরা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য এ দেশে এসেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ও আড়ালে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। কারণ এটি গোপন নয় যে আমরা জোরালোভাবে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ পথ।

গণতন্ত্রে এটি একটি বড় বিষয়। কারণ এটি এমন একটি সমাজ তৈরি করে যেখানে সবাই নিজেকে অংশীদার মনে করে। যেখানে সবার কথা বলার অধিকার নিশ্চিত থাকে। আর এর মাধ্যমে সমাজ শক্তিশালী ও জবাবদিহিতার আওতায় আসে। মন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় কারণ হিসেবে এলিসন ব্লেক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অনেক বছর ধরেই আমরা কাজ করছি। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর হঠাত্ পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে রোহিঙ্গাদের যে স্রোত বাংলাদেশের দিকে এসেছে, তা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বাস করেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব নিতে হবে। এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে বাস্তুচ্যুত লোকজন ঘরে ফিরে যেতে পারে। পূর্ণ নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার এবং জীবিকার নিশ্চয়তা দিয়েই তাদের রাখাইনে ফেরাতে হবে।

কাল আসছেন লিসা কার্টিজ – আগামীকাল শুক্রবার দুই দিনের সফরে বাংলাদেশ আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা লিসা কার্টিজ। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবেন। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সহযোগিতা নিয়ে তার সফরে আলোচনা হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে। উৎস- ইত্তেফাক

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *