সুখী হতে বিয়ে করুন মোটা মেয়েকে—

সাধারণত ছেলেরা বিয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশই চায় সুন্দর একটু চিকন স্লিম ধরনের মেয়ে দেখে বিয়ে করতে। মেয়ে একটু মোটা হলে সবাই চায় তাকে এড়িয়ে চলতে। তবে জীবনে সুখী হতে হলে মোটা মেয়েকে বিয়ে করার কথা বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় যা সামনে এসেছে তা শুনলে চমকে যাবে যে কোনো পুরুষ। গবেষণা বলছে, জীবনে সুখী হতে হলে অবশ্যই মোটা মেয়েদের বিয়ে করা উচিত পুরুষদের।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মোটা মেয়েদের তুলনায় স্বভাবের দিক দিয়ে চিকণ শরীরের মেয়েরা অনেকটাই রিজার্ভড হয়। স্বামীর সঙ্গে তারা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতেও অনেকটা সময় নেন।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, চিকণ স্ত্রী-দের তুলনায় তাদের স্বামীদের দশ গুণ বেশি সুখে রাখেন মোটা স্ত্রী-রা। এছাড়া তাদের সঙ্গীর চাহিদাও তারা অনেক বেশি ভালো বোঝেন।

মুলত, বিয়েসাদী একটি পবিত্র বন্ধন। যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। তবে সে ক্ষেত্রে নিজের পছন্দটাই আসলে প্রাধান্য দেয়া উচিত।

কোমরের নিচে পায়ের কোনও অস্তিত্ব নেই। যা আছে তা হুবহু মাছের লেজের মতো দেখতে। ফ্লোরিডা, পেরুর পর কলকাতা। ফের মাতৃগর্ভে জন্ম নিল মৎস্যকন্যার মতো মাছ-মানুষ। বিরলের মধ্যে বিরলতম।

এই ধরনের শিশুরা বেশিক্ষণ বাঁচে না। এই শিশুটি অবশ্য চারঘণ্টা বিশ মিনিট বেঁচেছে। বুধবার বেলা দশটা দশ মিনিটে জন্ম নেয় এই বিস্ময়-শিশুটি। তৈরি হয় এক ইতিহাস। ‘মারেমড বেবি’-র অভিধানে ঢুকে পড়ে তার নাম।

শিশুটিকে দেখে চিকিৎসক-নার্স সবাই চমকে যান। রূপকথার মৎস্যকন্যা অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) সবুজ চাদরে হাত-পা ছুড়ছে। দু’টি পা জোড়া লেগে। পায়ের পাতাদু’টি মাছের পাখনার মতো ডানা মেলেছে। অনেকেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। চিকিৎসকরা শিশুটিকে এসএনসিইউতে পাঠান। আপ্রাণ চেষ্টা করেন বাঁচানোর। সেখানেই দুপুর আড়াইটার দিকে মৃত্যু হয় ‘মারমেড বেবি’-র।

এই ‘মারমেড বেবি’-র বাবা বেলাল জানান, স্ত্রীর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না। ইউএসজিতেও কিছু ধরা পড়েনি। তবু কেন এমন হল বুঝতে পারছি না। বুধবারই মুসকুরার সন্তানকে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান ডা. সুদীপ সাহা জানিয়েছেন, শিশুটি সিরনোমেলিয়া বা মারমেড সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এক লাখ শিশু জন্মালে একজনের এমন রোগ হয়। বিশ্বে এখনও পর্যন্ত পাঁচজন শিশু এমন শরীরী গঠন নিয়ে জন্মেছে।

অ্যাম্বিলিক্যাল কর্ড দু’টির বদলে একটি ধমনি তৈরি করলে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণ যথেষ্ট রক্ত ও পুষ্টি পায় না। ফলে দু’টো পায়ের বদলে শরীরের নিম্নাঙ্গ মাছের আকার নেয়। অনেকগুলি কারণের মধ্যে এটা একটা। এমনটাই জানালেন কলকাতার স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য।

এই ধরনের শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কিডনি ও মূত্রথলির সমস্যায় ভুগতে থাকে। মুসকুরার সন্তানের ক্ষেত্রেও এমন নানা সমস্যা ছিল। সুস্পষ্ট রেচনাঙ্গ বা জননাঙ্গও ছিল না। ফলে অনেক চেষ্টাতেও মারমেড বেবি-কে সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি বাঁচানো যায়নি। হয়তো ফ্লোরিডার মতো কলকাতাও মৎস্যকন্যার রূপকথা লিখত।

আসলে যতটা না বাস্তব তার থেকে অনেক বেশি রূপকথা। গভীর সমুদ্রে ভেসে চলেছে জাহাজ। হঠাৎই নাবিকের কানে এল পাগল করা সুর। সুরের উৎস যখন সামনে এল তখন নাবিক বন্দি হয়েছে মৎস্যকন্যার মায়াজালে। স্কটল্যান্ড থেকে নেদারল্যান্ডস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ইন্দোনেশিয়া। দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে মৎস্যকন্যা, জলপরি নিয়ে হাজারো মিথ। টম হ্যাঙ্কির স্ল্যাশ থেকে টিম কারির ‘দি লিটল মারমেড’। গল্প—উপন্যাসের পাতা পেরিয়ে সিনেমার রুপোলি পর্দায় বারবার ফিরে এসেছে সেই মৎস্যকন্যা। মাইথোলজি, ইন্দ্রজাল, অ্যাডভেঞ্চার, রহস্যের বিরলতম উদাহরণ ‘মারমেড’। কেমন সেই কন্যা, কে দেখেছে তাকে তা নিয়ে পৃথিবীজোড়া কল্পনা আর গল্পের ঢেউ। কিন্তু বাস্তবে এই পৃথিবী সাক্ষী রয়েছে হাতে গোনা কয়েকবারই। যদিও যেটা গল্প নয়, বরং রূঢ় বাস্তব।

আসলে নীল জলে শরীরী উদ্ভাস তোলা মৎস্যকন্যার গল্পের থেকে অনেক দূর কলকাতায় জন্ম নেওয়া মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার জন্য পৃথিবীতে থাকা শিশুটি। চিকিৎসার পরিভাষায় তার নাম ‘মারমেড বেবি’। চিকিৎসকদের কাছেও বিস্ময়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাছেও এই ঘটনা ‘ডায়মন্ড রিং’-এর থেকেও বিরলতম। কিন্তু, কীভাবে বিরলের মধ্যে বিরলতম হয়ে ওঠে এমন শিশু? কেনই বা পৃথিবীর আলো বেশিক্ষণ থাকে না তার উপর? কোন জটিল জিন আবর্তে এমন অদ্ভুত শিশুর দেখা মেলে?

প্রশ্ন অনেক। উত্তর বেশিরভাগটাই অজানা। যদিও এ শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার সময় ভ্রূণের একটি অংশে বিকৃতির জেরেই ঘটে যায় এমন কাণ্ড। সিরনোমেলিয়া বা মারমেড সিনড্রোম একটি বিরল জন্মগত রোগ। এক লাখ শিশু জন্মালে একজনের এমন রোগ হয়।

সাধারণত, ১-২ দিনের বেশি বাঁচে না। ব্যতিক্রম অবশ্য রয়েছে। ফ্লোরিডার টিফানি ইয়র্কস থেকে পেরুর মিলাগ্রাস ক্যারেন। টিফানির ২৭ বছর, মিলাগ্রাসের ১১ বছর বয়স। বিশ্বে এখনও পর্যন্ত পাঁচজন শিশু এমন শরীরি গঠন নিয়ে জন্মেছে।

চিকিৎসকরা জানালেন, অ্যাম্বিলক্যাল কর্ড যখন দু’টি ধমনি তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তখনই এই জটিলতা তৈরি হয় ভ্রূণের মধ্যে। আসলে একটা ধমনি হওয়ায় মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের মধ্যে যথেষ্ট রক্ত সংবাহিত হয় না। একমুখী রক্তপ্রবাহের জন্য ভ্রূণ যথেষ্ট পুষ্টি পায় না। তার জেরেই মাছের লেজের মতো হয় যায় শরীরের নিম্নভাগ। এই শিশুরা জন্মের পর থেকেই কিডনি ও মূত্রথলির সমস্যায় ভুগতে থাকে। বেশিরভাগ সুস্পষ্ট কোনও রেচনাঙ্গ বা জননাঙ্গ থাকে না। ফলে, শিশুর লিঙ্গ নির্ধারনেও সমস্যা হয়। সেবাসদনের শিশুটিরও লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায়নি।

গবেষণা বলছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে অত্যধিক ওষুধ প্রবেশ করলে, ভিটামিনের অভাব হলে কিংবা মা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই ব্যাখ্যা চূড়ান্ত নয়।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *