হাউজে রাতের অতিথী হয়ে এসেছিলেন যেসব দেশি বিদেশী তারকারা ! এরশাদ মামুর শয্যাসঙ্গী কারা

হাউজে রাতের অতিথী হয়ে এসেছিলেন যেসব দেশি বিদেশী তারকারা ! মামুর শয্যাসঙ্গী কারা

আরশ আমাকে পৌঁছে দিয়ে চলে গেলো। রাতে কল দিয়ে খোঁজ নিলো ভালো আছি কিনা, খেয়েছি কিনা, ইত্যাদি। ভদ্রতার খাতিরে আমিও খোঁজ নিলাম আরশের।

সকালে অফিস যাওয়ার পথে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি, তাকিয়ে দেখছি আরশও আছে ঠিক রোজকার মতই দাঁড়িয়ে, আমাকে দেখে এগিয়ে এসে ভালো মন্দ খোঁজ নিয়ে একটা অটো ডেকে আমাকে অফিসে পৌঁছে দিতে বললো। আমি চলে আসলাম আরশও তার গন্তব্যে চলে গেলো। অফিস থাকা কালীন বেশ কয়েকবার আমাকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিলো, তবে আমি বিরক্ত হচ্ছি কিনা সেটাও জেনে নিলো, আর বেশি সময় ধরে কথা বলে না পাছে আমার ডিস্টার্ব হয়।

এভাবে রোজ অফিসে যাওয়ার পথে দেখা আর মোবাইলে কথা হয়। এতদিনে আমাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ধত্ব তৈরী হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা এখনো কেউ কাউকে তুমি করে বলিনা, শুধু বিয়ের দিন ভুল করে আরশ কান্না করার সময় আমাকে জরিয়ে ধরে তুমি করে বলে ফেলেছিলো। এরপর কেউ কাউকে তুমি করে বলতেও বলিনি একবারও।

দিন দিন আরশের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা চলে আসছে, একটু সময় কথা না হলে কেমন বারবার মনে পড়ছে, একদিন দেখা না হলে কেমন অস্থির লাগা শুরু হয়ে যায়। যেকোন কথা আরশকে না জানানো পর্যন্ত পেটের মধ্যে গুরগুর করতে থাকে। আগে আরশই শুধু আমাকে কল করতো এখন আমিও কল করি মাঝে মাঝে। ছেলেটা সত্যি অনেক ভালো, ঠিক আমি যেমনটা চাইতাম, ছেলেদের প্রতি আমার বিশ্বাসটা যেন ফিরে পেতে শুরু করেছি। বুঝতে পারছি আসলেই পৃথিবীর সব ছেলেরা এক নয়, এখনো অনেক ভালো ছেলে এই পৃথিবীতে আছে।

আচ্ছা তাহলে কি আমি আরশকে ভালোবেসে ফেলছি? না না এটা হতে পারে না এটা ভাবাও পাপ, আমি আরশকে কিছুতেই ভালোবাসতে পারি না। আরশ শুধু আমার ভালো বন্ধু হতে পারে এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু আমি কি আরশের সাথে অন্যায় করে ফেলছি?

আরশও তো আমাকে ছাড়া এখন চলতে পারে না, আমি আরশের সাথে বন্ধুত্ব সুলভ ভাবে মিশে যেটুকু বুঝেছি ও আমাকে খুব ভালোবাসে, খুব কেয়ার করে, আমার প্রতিটা পদক্ষেপে যেন ওর খেয়াল, প্রতিটা মুহুর্তে আমার ভালোলাগা মন্দ লাগাকে প্রাধান্য দেয়, আমার না বলা সবকিছু যেন কি ভাবে বুঝে যায়। সারাটা ক্ষন যেন আমাকে নিয়েই তার সব চিন্তা ভাবনা, নিজের দিকে খেয়াল নেই, আমার খাওয়া, চলাফেরা আমার শরীর, আমার সুস্থতা এগুলোই যেন ওর চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু এখন।

কিন্তু আমার এখন কি করা উচিত? দিন দিন আমিও আরশকে ছাড়া অচল হয়ে পড়ছি, এভাবে চললে তো অনেক বড় সমস্যায় পড়বো। আরশেরই বা কি হবে? ওকেই বা আমি কি বলবো? দিন দিন বিষয়টা জটিল হয়ে যাচ্ছে, যেমনটা ভেবেছিলাম সব যেন গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে। আমি কোন ছেলের উপর এতটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারি তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি আরশকে ছেড়ে এখন বাঁচবো কি করে, মনে হলেই কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে, বুকের মধ্যে যেন সাইক্লোন বয়ে যাচ্ছে।

ভাবছি আমি এখন কি করবো? আমি কি আরশকে কিছু না বলে ওর সাথে সংসার করবো? আমাদের বিয়ে যেহেতু হয়েই গেছে এখন সংসার করতে তো কোন সমস্যা নেই। কোন অন্যায় হবে না আমরা তো আইনত স্বামী স্ত্রী। আরশ তো কিছু জানে না, আমি না বললেই আর কোন সমস্যাই নেই, দিব্বি দুজন সুখের সংসার করতে পারবো, দুজন দুজনকে পাগলের মত ভালোবাসবো, আমাদের খুব সুখের ছোট্ট একটা সংসার হবে, যে সংসারে শুধু ভালোবাসা খেলা করে যাবে সারাদিন রাত।

ছিঃ ছিঃ আমি এসব কি ভাবছি পাগলের মত? এসব ভাবাও যে অন্যায়, পাপ। না আমি এতটা স্বার্থপর হতে পারবো না। আমি কারো সাথে বেইমানী করতে পারবো না। কাউকে ঠকাতে পারিনা আমি। কিন্তু এভাবে চলতে দেওয়াও আর ঠিক হবে না, আমি আরশকে আর কষ্ট দিতে পারবো না, এতবড় মিথ্যে বয়ে বেড়ানো আর সম্ভব নয়, আমি আরশকে সব সত্যিটা বলে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিবো। দুদিন পর যেটা বলতেই হবে সেটা দুদিন আগে বলাই ভালো নয়তো কষ্টটা আরো বাড়বে, আমি আরশের বন্ধুত্বটাও হারাতে চাই না। জানিনা সব শোনার পর আরশ আর আমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখবে কিনা, কতটা ঘৃনা করবে সেটাও বুঝতে পারছি না, তারপরও যাই ঘটুক না কেন আমাকে শক্ত হয়ে সব সত্যিটা আরশকে বলতেই হবে। কালকেই আমি সব বলে দিবো।

আরশকে কল দিয়ে বললাম, কালকে একটু হাতে সময় নিয়ে দেখা করতে পারবেন? কথা আছে।

আরশ কথাটা শুনেই হাসতে হাসতে বললো কি ব্যাপার ম্যাডাম ডেটিং এ যাওয়ার জন্য ডাকছেন? কালকে কি আমাকে আপনার ভালোবাসার কথা জানাবেন নাকি? ইস্ আমি আপনার মুখে এই কথাটা শোনার জন্য কতদিন ধরে অপেক্ষা করছি আর সেই দিনটা যে আগামীকালই হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। ইস্ আজ রাতটা আমার কি ভাবে কাটবে, সকালটা যে কখন হবে? আচ্ছা আপনি কাল দেখা করবেন সেটা আজকেই এত আগে কেন বললেন বলুন তো, আমার ঘুমটা হারাম করার জন্য না? আমি জানি তো এটাও আপনার একটা দুষ্টু বুদ্ধি আমাকে কষ্ট দেওয়ার। এখন যখন বলে আমার ঘুমটা হারাম করে দিলেন তেমনি আপনাকেও আজ ঘুমাতে দিবো না, সারা রাত জেগে আমার সাথে গল্প করতে হবে নয়তো ছাড়াছাড়ি নাই আজ বুঝেছেন মহারাণী?

আমি কিছুই পারিনা আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা”। ..এ দু ‘টো বাক্য বেশিরভাগ সময় হতাশাগ্রস্থ মানুষের মুখে শুনে থাকি। আসলেই কি আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা! ভাবছেন!! হুম আমি চাই আপনি এই ভাবনাটাই করুন। এতদিন যদি একটু ভাবতেন,তাহলে কিছু না পারার প্রশ্নটাই উহ্য থাকতো। হয়তো এটা ঠিক যে ,আপনার দ্বারা সব কাজ সম্ভব নয়। কিন্তু এটা তো মিথ্যে কথা আপনার দ্বারা কিচ্ছু হবেনা। ..আপনিই একটু ভাবুন তো, এমন কিছু কাজ আছে যা অন্য সবার থেকে আপনার দ্বারাই ভালো হয়। –সত্যিই বলছি আপনি দারুণভাবেই সেটা ভালো পারেন। –ধরুন, …. আপনি ভালো গান জানেন, ছবি আঁকেন, গল্প বা কবিতা লেখেন, আপনার হাতের লিখা সুন্দর, ভালো মেহেদী পরাতে জানেন। –আবার এমনও কিছু পারেন যা অন্যরা পারেনা। যেমন, সুন্দর করে ঘুচিয়ে কথা বলতে পারেন, মানুষের সাথে মিশতে পারেন, সবার কথা শুনে দৌড়ে যে কোন কাজের রিস্ক নিতে পারেন। –আপনি আরও কিছু পারেন, ঝগড়া দেখলে ভাঙতে জানেন, কেউ বকা দিলে ধৈর্য্য নিয়ে শুনতে পারেন। …আপনিও এ ও পারেন খুব মিষ্টি করে সারাক্ষণ হাসতে। পরিবারের জন্যে নিজের সব বিসর্জন দিতে। আবার, এটাও দেখুন আপনার মতো একই পরিবেশে থাকা ব্যক্তিটি ভালো স্টুডেন্ট হতে পারেনি। কিন্তু আপনার থেকেও দূর্বল স্টুডেন্ট আজ ভালো জব করছে।

–আপনি ভালো খেলতে পারেন,ছবি ভালো তুলতে পারেন, কষ্ট দুঃখ ভুলতে জানেন। –ভালো রান্না করতে পারেন, আতিথেয়তায় হৃদয় উজাড় করতে জানেন। –গল্প করে আড্ডা মাতিয়ে রাখতে পারেন,ভালো সাজতে জানেন।হিসেব করে টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করতে পারেন। এ বিষয়গুলোর কিছুতো আপনি পারেন! তাহলে কেন বললেন,আপনাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা! –হ্যাঁ এটা মানি আপনাকে দিয়ে সব হবেনা। কিন্তু এটা আপনি বিশ্বাস করুন আপনি যা পারেন অন্যেরা তা পারেনা। সবাই সব বিষয়ে কখনও পারদর্শী হতে পারেনা,সীমাবদ্ধতা থাকবেই। কারণ আমরা মানুষ। এ জন্যেই সৃষ্টিকর্তা সব মানুষকে পরিপূর্ণ করে পাঠান না। কারন কি জানেন? …যদি কাউকে সৃষ্টিকর্তা পরিপূর্ণ করে পাঠাতেন, তবে তার কাছে না পাওয়ার শূন্যতা বলে কিছুই থাকতো না। যদি, না পাওয়ার শূন্যতা না থাকতো তখন কিন্তু সৃষ্টিকর্তাকেই ভুলে যেত সবাই। তাই, কিছু হবেনা আমাকে দিয়ে আমি কিছুই পারিনা এই বাক্য থেকে বের হয়ে আসুন। আর মানুন, সৃষ্টিকর্তা আপনাকে যা পারার ক্ষমতা দিয়েছেন, অন্যকে তা দেন নি। আর বিশ্বাস করুন আপনি যা-ই পারেন সেটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে কোনটাই ছোট নয়। …নিজের কাজকে নিজে সম্মান করুন,আর “আমাকে দিয়েই কিছু তো একটা হবে” এই ভেবে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিন।

মেয়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে মিসেস রুবি বেগম। মেয়ের ঝুলন্ত লাশ টি তারই চোখের সামনে। বুক টা ফেটে যাচ্ছে তার। নিজের অপরাধবোধ আজকে তাকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। তার জন্যই কি অপর্ণার আজকে এই অবস্থা মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার। কারন সে যে মা, সে যে অপর্ণা কে গর্ভে ধারন করেছে জন্ম দিয়েছে। আদর যত্ন দিয়ে বড় করেছে। তবে মা হয়েও নিজের মেয়েটাকে কেন সে বুঝতে পারেনি! এই অনুশোচনাই উনি ভেঙে পড়ছেন। তবে অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। প্রথমে রুবি ভেবেছিল তার মেয়েটার মৃত্যুর জন্য অন্য কেউ দায়ি। কিন্তু পুলিশের হাতে পরা অপর্ণার ইমেইল টা পেয়ে সে বুঝতে পেরেছে নিজের মেয়ের এই করুন অবস্থার জন্য অনেকাংশে সে অপরাধী। অপর্ণা লেখা পড়াই খুবই ভালো ছিল। ছোট থেকেই ভালো রেজাল্ট করে আসতেছে। তাই মিসেস রুবি ভেবে রেখেছিলো অপর্ণা কে তার পেশা তেই নিয়ে আসবে। উনি একজন ডাক্তার। ফ্যামিলির দিক থেকে অনেক হাই সোসাইটির। সে দিক থেকে তার মাঝে অনেক টাই অহং বোধ। অপর্ণা কে ছোট থেকেই কারো সাথে মিশতে দিতোনা রুবি। কারন মেয়ে খারাপ ও অমনোযোগী হয়ে যাবে ভেবে। ধীরেধীরে অপর্ণা বড় হতে লাগল অনেক কিছুই শিখল। সে তার মাকে খুবই ভয় পেতো।

কারন অপর্ণা কখনো মায়ের আদর স্নেহ পায়নি। ছোট বেলা থেকেই কড়া শাসনের মাঝে বড় হয়েছে সে। একটি নাম করা কলেজ থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করে ইন্টার পাশ করেছে রুবি। তার মায়ের টার্গেট সে বাহিরে গিয়ে কোনো ভালো মেডিকেলে এডমিশন টেস্ট দেবে। কিন্তু অপর্ণার মেডিকেল পড়া বা ডাক্তারি পেশা তে বড্ড অনীহা। কারন সে ছোট বেলা থেকে তার মাকে দেখে এসেছে। তাই নিজের অবস্থান ভেবে তার আরো বেশি অনিচ্ছা জাগে। কিন্তু রুবির এক্টাই কথা অপর্ণা কে দেশের বাহিরের নাম করা কোনো মেডিকেলে চাঞ্চ পেতেই হবে। মিসেস রুবি তার ক্যারিয়ার ও মেয়েকে নিয়ে এদিক থেকে খুবই সচেতন তাই মেয়েকে অন্য কিছুতে কখনোই প্রশ্রয় দিতেন না। মেয়ের ইচ্ছা অনিচ্ছা শখ আহ্লাদ কখনো সেই বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দিতেন না। ৫-৬ মাস বাকি আছে এডমিশন টেস্টের। অপর্ণা কে আরো বেশি পরিশ্রমী হতে হবে। তার মা চান অপর্ণা যেন ৯৯% মার্ক পায়, এতে তার যা করার তাই করতে প্রস্তুত। অপর্ণা ছোট থেকে ড্রয়িং করতে খুব পছন্দ করত। একবার মায়ের চোখে এটা পড়েছিল। সেইবার রুবি তার মেয়েকে কড়া শাসন করেছে আর যেন কখনো এসব ফালতু কাজে ওকে সময় নষ্ট করতে না দেখে। তারপর অপর্ণা লুকিয়ে লুকিয়ে ড্রয়িং করত। কেউ জানত এই বিষয় টা। অপর্ণা কোচিং এর টেস্ট পরীক্ষায় ৮৮% নাম্বার পায় বলে রুবি অনেক বেশি রেগে যায়। অপর্ণা আগের চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগী হলো পড়াশুনায়। দৈনিক ১৫-১৬ ঘন্টা সে পড়াশুনা করত। অপর্ণার ভালো প্রিপারেশন ও পড়াশুনা দেখাশুনা করার জন্য একজন টিচার বাড়িতে রাখা হলো। সে সার্বক্ষণিক অপর্ণার পড়াশুনা রুটিন দেখবেন। একদিন রাতে অপর্ণা পড়া শেষ করে নিজের রুমে বসে স্কেচ আঁকছিল, হটাত করে তার ওই গাইডলাইনার রুমে ঢুকতেই অপর্ণা সেগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু উনার চোখ এড়াতে পারেনি। উনি আসতেই অপর্ণা ভয়ে চমকে যায়। উনি তখন অপর্ণা কে আশ্বাস দেন মিসেস রুবি কে উনি কিছু বলবেনা। তখন অপর্ণার আকা স্কেচ গুলো দেখে উনি অবাক ও মুগ্ধ হয়ে যায়। কারন যেই মেয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সেই ধরনের সুযোগ সুবিধা ছাড়া এত সুন্দর আঁকতে পারে সে জীবনে এটা দিয়েই অনেক বড় হতে পারবে। তার পর থেকে অপর্ণা উনাকে বিভিন্ন স্কেচ একে দেখাতো। তবে সেটা পড়া কমপ্লিট করে একটু সময় পেলে তাও মায়ের চোখ এড়িয়ে। মিঃ রাহাত অপর্ণার গাইডলাইনার অপর্ণার এই প্রতিভা দেখে তার পরিচিত এক জনের সাথে কথা বলল।

সে অপর্ণার আঁকানো ছবি গুলো দেখে বলে একে আরেকটু শিখানো হলে ও এটা তে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। অপর্ণা কে বলা হলো মা না থাকলে তার ওই টিচার এসে তাকে স্কেচ আঁকাতে সাহায্য করবে। এভাবে লুকিয়ে শিখতে শিখতে একদিন রুবির চোখে ধরা পরে যায় বিষয় টা। সেদিন মিঃ রাহাত জাতীয় স্তরে অপর্ণার স্কেচ প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণ এর ব্যাপারে কথা বলছিল। এবং ডেট ও ফিক্সড হয়ে যায়। কিন্তু রুবি তাৎক্ষণিক কিছু না বলে এই প্রতিযোগিতায় যাওয়া টা কিভাবে আটকাবে তা ভাবতে থাকে। প্রতিযোগিতার আগের দিন রাতে রুবি অপর্ণার কাছে এসে অনেকক্ষণ বসে গল্প করে এবং বলে আজকে আর পড়তে হবে না ঘুমিয়ে পড় তাই বলে এক গ্লাস দুধ খেতে দেয় অপর্ণা কে। অপর্ণা দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, পরেরদিন সকাল ১০ টাই অপর্ণার প্রতিযোগিতা কিন্তু বেলা ১১ টা বাজে সে এখনো ঘুমাচ্ছে। কারন রাতে দুধের সাথে তার মা ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দিয়েছিল। মিঃ রাহাত জাগাতে আসলে অপর্ণা কে জাগাতে নিষেধ করে রুবি বেগম এবং অনেক অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এসব শুনে উনি চলে যায়। অপর্ণা ঘুম ভেঙে দেখে বেলা দুপুর গড়িয়ে গেছে। তাকে কেউ জাগায়নি কেন। সে খুব কান্নাকাটি করল, এর মধ্যে তার মা এসে ওকে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে দিয়ে বলল পড়াশুনায় মনোযোগ দাও। রাহাত সাহেব কে আমি বের করে দিয়েছি। ও তোমার মাথা টা খেয়েছে তাইনা। অপর্ণা এসব শুনে খুব কষ্ট পেলো। তার জন্য অন্য কেউ অপমানিত হোক তা সে কখনোই চায় না। তাই সে মনে মনে রাগে ঠিক করল আর এসব নয়। যেই জীবনের কোনো মূল্য নেই তাকে বাঁচিয়ে রেখে কি হবে! তাই সে তার ল্যাপটপে একটি ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখল। যাতে করে পরবর্তী তে তার জন্য অন্য কেউ শাস্তি যেন না পায়। সে বলল – “মা আমি খুব করে চেয়েছিলাম তোমার মতো হতে,

কিন্তু আমি পারিনি কারন আমার মন আমাকে এটাতে সায় দেয়নি। তারপরেও চেষ্টা করেছিলাম তোমাকে ভালোবাসি বলে মা। তোমার ইচ্ছা টাকে প্রাধান্য দেই বলে। জানো মা আমারো খুব ইচ্ছা করত আর পাঁচ টা ছেলেমেয়ের মত জীবন টাকে লিড করতে। খুব ইচ্ছা করত তোমার আদর ভালবাসা পেতে, কিন্তু তুমি এতটাই নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভেবেছ যে নিজের মেয়ের মন টাকেই বুঝতে ভুলে গেছো। আমার এই গাদি গাদি বই পড়তে ভালো লাগত না, কিন্তু তুমি এটাতেই খুশি ছিলে তাই এটাকেই বরণ করে নিয়েছিলাম। কিন্তু মা আজ আর পারলাম না, যখন জানতে পারলাম তুমি আমার জন্য স্যার কে অপমান করেছ। মা স্যার আমায় নিজের মেয়ের মত স্নেহ করত তাই আমার আবদার ফেলতে পারেনি। মা সবসময় সবার মাথায় বোঝা চাপিয়ে দিলেই হয় না তার বহন ক্ষমতা তার আছে কিনা তা বিবেচনা করতে হয়। মা আমি তোমায় দোষারোপ করছিনা। তুমি আমার মা, আমার ভালোর জন্যই হয়ত সব করেছ। কিন্তু মা আমি যে পারলাম না তোমার স্বপ্ন টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, পারলাম না নিজের স্বপ্ন টাকে বাঁচিয়ে রাখতে, তাই নিজেই চলে গেলাম। ভালো থেকো মা, আর আমার জন্য একটু ও কষ্ট পেয়োনা। আর এক টা কথা, আমি তোমায় খুব ভালবাসি মা” ভিডিও ক্লিপ টা সেভ করে অর্পণা ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে সুইসাইড করল। মিসেস রুবি ফিরে এসে এটা দেখে নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছিল না।

প্রথমে এসবের জন্য তিনি মিঃ রাহাত কে দায়ি করেন। পুলিশ এসে রাহাত সাহেব কে গ্রেফতার করে নিয়ে যান। তিনি অর্পণার মৃত্যু টাকে মেনে নিতে পারেন নি। পুলিশ অর্পণার ল্যাপটপ খুঁজে এই ইমেইল পায়। যেটা দ্বারা প্রমান হয় রাহাত সাহেব নির্দোষ। আর রুবি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তবে এখন কেঁদে আর কোনো লাভ নেই। আজ নিজের ভুলের কারনে, নিজের মতামতের প্রেক্ষিতে একটা নিষ্পাপ মেয়ের প্রান গেলো। তাকে আর কোনো শাস্তি দেয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের অনুশোচনার দগ্ধে সে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রতিনিয়ত। #উপরোক্ত ঘটনা টা শুধুমাত্র একটি গল্প বা কাহিনী নয়, এভাবে মানুষিক চাপে, অন্যের মতামত কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অপর্ণার মত এমন হাজারো ছেলে মেয়ে প্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু কেন! একটা ভালো রেজাল্ট কি সব এনে দিতে পারে? অভিভাবক দের কে বলছি একটা বার কি খেয়াল করে দেখেছেন কখনো, আপনার সন্তান কে এভাবে মানুষিক চাপে রেখে তাকে দিয়ে কতটা অগ্রগতি করতে পেরেছেন! একটু খেয়াল করে দেখুন, শুধু পড়াশুনার মেধা নয়, তার মাঝে অনেক সুপ্ত প্রতিভা লুকয়িত আছে, শুধু একটু বিকশিত হবার সুযোগের অপেক্ষায়। আর আত্মহত্যা কিন্তু মুক্তির পথ না। নিজেকে বোঝা উচিৎ। কাছের মানুষ গুলোর থেকে কষ্ট পেয়ে নিজের ক্ষতি করার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই। বাবা মা বুঝতেছে না! তাদেরকে বুঝিয়ে বলো। দেখবে হয়ত তারা ঠিকই বুঝবে। আর তুমি পারছো না চেষ্টা করো, অবশ্যই সফল হবে। জীবনে বড় হতে হলে শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে তা নয়। আচ্ছা ডাক্তার,

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *