হাসপাতালে না গিয়েই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে বিমানমন্ত্রী !

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত স্থল পরিদর্শন করতে নেপালে গেছেন বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল। আজ মঙ্গলবার বেলা চারটায় দূর থেকে ঘটনাস্থল দেখে তিনি কাঠমান্ডুর ইয়ক অ্যান্ড ইয়েপি হোটেলে গিয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান। বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাজাহান কামাল কি কারণে জীবিত চিকিৎসাধীনদের না দেখে হোটেলে গিয়ে উঠেছেন সেটা জানা না গেলেও এ নিয়ে চলছে সমালোচনা।

bimannn

নেপালে বসবাসরত এক বাংলাদেশি বলেন, ‘এ কেমন মন্ত্রী! এসেছেন যাদের জন্যে, তাদের কাছে না গিয়ে আগে গিয়ে উঠেছেন তারকা হোটেলে।’

জানা গেছে, মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরিচালনা ও পরিকল্পনা সদস্য এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। দুর্ঘটনা পরবর্তী সার্বিক বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন তারা।

এর আগে বিমানমন্ত্রী-সাংবাদিক ও শতাধিক যাত্রীসহ এয়ারলাইন্সের কাঠমান্ডুগামী ফ্লাইট বিজি-০০৭১ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ছাড়ে ময়ূরপঙ্ক্ষী বিমানটি। কথা ছিল নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।

তবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ আসলো একটি ঘোষণা। বিমানের ক্যাপ্টেন বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি। তবে আমাদের এখনও ল্যান্ডিং টাইম (অবতরণের সময়) দেয়া হয়নি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অতিরিক্ত ফ্লাই করে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করতে পারব। গতকাল ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’

এর পর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং ল্যান্ডিং টাইম ঠিক করে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে অবতরণ না করে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট মন্ত্রীকে বহন করা বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।

উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের নিহত হয়েছেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেছেন, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রোপ বিমানটি ৬৭ আরোহী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালের নাগরিক।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *